কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থায় আইন ও আদালতের একটা প্রধান উপযোগিতা রেজিমের বৈধতা প্রদান করা। তা করার একটি বিশেষ উপায় হলো রাষ্ট্রের প্রধান ও গুরুতর রাজনৈতিক বিতর্কগুলো সমাধানের ক্ষেত্রে অতিমাত্রায় আদালতনির্ভরতা। তাত্ত্বিকেরা এর নাম দিয়েছেন ‘রাজনীতির বিচারিকীকরণ’। এ প্রক্রিয়ায় ‘রাজনৈতিক আদালত’–এর উত্থান ঘটে এবং রাজনৈতিক পরিসরকে ব্যাপকভাবে বিভাজিত করা হয়।
সরকার তার ক্ষমতা ও বৈধতা-সংক্রান্ত প্রধান প্রশ্নগুলো বা সংস্কারের ইস্যুগুলো আদালতের কাঁধে বন্দুক রেখে সমাধান করে নেয়। বাজেট, নিয়োগ ও পদোন্নতি নির্বাহী বিভাগের নিয়ন্ত্রণে রেখে, উচ্চ আদালতে বেঞ্চ পুনর্গঠন করে কিংবা অবসর-পরবর্তী নিয়োগের প্রলোভন সামনে রেখে বিচার বিভাগকে নতজানু করে রাখা হয়। ঘটে ‘বিচারব্যবস্থার রাজনীতিকরণ’।এই দুই প্রক্রিয়ার মিথস্ক্রিয়ায় আরও একটা লক্ষণ প্রকট হয়ে ওঠে।
রাজনৈতিক পরিসরে আইনি ডিসকোর্স, বাগাড়ম্বর, বিধি, প্রক্রিয়ার বিস্তৃতি ঘটে এবং নীতি প্রণয়ন প্রক্রিয়াও আধা বিচারিক বিধিবিধান ও প্রক্রিয়ায় রূপান্তরিত হয়।২বাংলাদেশে রাজনীতির বিচারিকীকরণ নিয়ে কিছু আলোচনা হলেও এর যে প্রধান প্রবণতা এখনো চিহ্নিত করা হয়নি, তা হলো বিচার বিভাগের ‘কৌশলগত দলবদল’।
সূত্র: প্রথম আলো